17.1 C
Rajshahi
Friday, February 27, 2026
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img

রাসিক কর্মকর্তা সাইদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

আকাশ সরকার, রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহী মহানগরীর সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালেহ নুর-ই-সাইদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং স্বৈরাচারী সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তাঁর অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নগরবাসী বৃহস্পতিবার মানববন্ধন ও বিভাগীয় কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি পেশ করেছেন।

নাগরিকদের অভিযোগ, আবু সালেহ নুর-ই-সাইদ সাবেক মেয়র এ.এইচ.এম. খায়রুজ্জামান লিটনের ফুফাতো ভাই ও পরিবারের সদস্য হওয়ার সুবাদে ২০১০ সালে রাজস্ব কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পান। এরপর থেকে তিনি নিজেকে আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে ক্ষমতার অপব্যবহার শুরু করেন। সাবেক মেয়র লিটনের আস্থাভাজন হওয়ার সুযোগে তিনি অবৈধভাবে প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার পদটি দখল করে আছেন। অভিযোগ উঠেছে, সিটি কর্পোরেশনের কয়েকজন প্রভাবশালী কাউন্সিলর এবং অবৈধ ইউনিয়ন সভাপতি মালি দুলাল ও সেক্রেটারি আজমির আহমেদ মামুনের সহযোগিতায় তিনি নগর ভবনে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন।

তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জোরপূর্বক আওয়ামী লীগের দলীয় অনুষ্ঠান, মিছিল-মিটিং ও নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে বাধ্য করতেন। এছাড়াও সিটি কর্পোরেশনে নিজের আধিপত্য বিস্তারের জন্য সাবেক মেয়রের সহযোগিতায় বিভিন্ন বিভাগ/শাখায় ছাত্রলীগ-যুবলীগের ক্যাডারদের অস্থায়ী ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব ক্যাডাররা অফিসে কোনো কাজ না করেই প্রতি মাসে বেতন-ভাতা উত্তোলন করত।

নাগরিকরা আরও অভিযোগ করেন, জুলাই ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার আন্দোলন প্রতিহত করার জন্য নগর ভবনকে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভাড়াটে ক্যাডার এনে নগর ভবনের গেস্ট হাউসে ও শহরের নামী-দামী আবাসিক হোটেলে রাখা হতো। কথিত আছে, তাদের মনোরঞ্জনের জন্য নগর ভবনে মহিলাদের ব্যবস্থা করা হতো। গেস্ট হাউসে তাদের খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা হতো এবং তারা অফিস চলাকালীন সময়ে অস্ত্রের মহড়া দেখিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ নগরবাসীকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করত। এই ক্যাডাররা বেশিরভাগ সময় প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার দপ্তরেই মিটিং করত।

গত ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর দেশের পট পরিবর্তন হলেও আবু সালেহ নুর-ই-সাইদ নিজের লেবাস পরিবর্তন করে এখনও ক্ষমতার অপব্যবহার করে চলেছেন বলে অভিযোগ। তাঁর অধীনস্থ ভিন্নমতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপর নিপীড়ন চালিয়ে তিনি স্বৈরাচার সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নের পাঁয়তারা করছেন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনে জড়িত থাকার অভিযোগে সিটি কর্পোরেশনের কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়, যার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড ছিলেন এই প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা। কিন্তু প্রশাসন আজ পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

গত ১৫ এপ্রিল/২০২৫ তারিখে নগরবাসী প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার অপসারণের জন্য নগর ভবনের সামনে মানববন্ধন ও প্রশাসক মহোদয়কে স্মারকলিপি প্রদান করেন। এতকিছুর পরও তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় নগরবাসী ক্ষুব্ধ ও বিচলিত। নগরবাসী অবিলম্বে সকল স্বৈরাচারের দোসরদের অপসারণ ও বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায়, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তাকে অপসারণ বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল সহ সকল প্রকার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।

এই পরিস্থিতিতে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালেহ নুর-ই-সাইদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো তদন্ত করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে নগরবাসী। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার আজিম আহমেদ বলেন, “রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালেহ নুর-ই-সাইদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


Discover more from Shadhin Janapad

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

সম্পর্কিত সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here


Math Captcha
7 + 3 =


কোরআনের বাণী

spot_imgspot_imgspot_imgspot_img

সর্বশেষ সংবাদ