
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ স্থবির হয়ে যাওয়া পারমাণবিক আলোচনাকে পুনরুজ্জীবিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাজি করানোর জন্য সৌদি আরবকে অনুরোধ জানিয়েছে ইরান যা সম্ভাব্য আরেক দফা ইসরায়েলি বিমান হামলার আশঙ্কা এবং গভীর অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে তেহরানের উদ্বেগকে আরো স্পষ্ট করে। বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত দুই আঞ্চলিক সূত্র বুধবার রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।
সপ্তাহের শুরুতে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের হোয়াইট হাউস সফরের ঠিক এক দিন আগে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান সৌদি যুবরাজের কাছে একটি চিঠি পাঠান ইরানি ও সৌদি গণমাধ্যম সোমবার এ খবর জানায়।
সূত্রগুলো জানায়, পেজেশকিয়ান তার চিঠিতে বলেছেন, ইরান ‘কারো সঙ্গে সংঘর্ষ চায় না’, আঞ্চলিক সহযোগিতা আরো গভীর করতে চায় এবং ‘যদি তার অধিকার নিশ্চিতে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়’, তবে কূটনীতির মাধ্যমে পরমাণু ইস্যুর সমাধানে ইরান এখনো ‘উন্মুক্ত’।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাগায়ি বুধবার বলেছেন, পেজেশকিয়ানের বার্তা ছিল ‘সম্পূর্ণ দ্বিপাক্ষিক’। সৌদি সরকারের মিডিয়া অফিস মন্তব্যের অনুরোধের তাৎক্ষণিক জবাব দেয়নি।
ইসরায়েলি বিমান হামলায় শুরু হওয়া জুনের ১২ দিনের যুদ্ধের আগে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিতর্কিত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি নিয়ে পাঁচ দফা আলোচনা চালিয়েছে।
সেই যুদ্ধের পর থেকে আলোচনাগুলো অচল অবস্থায় পড়ে যদিও উভয় দেশই বলে আসছে, তারা এখনো সমঝোতার জন্য উন্মুক্ত।
গালফ অঞ্চলের একটি সূত্র জানায়, ইরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় ফেরার একটি চ্যানেল খুঁজছে এবং সৌদি যুবরাজও শান্তিপূর্ণ সমাধান চান তিনি ওয়াশিংটনে সফরের সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তা জানিয়েছেন।
সূত্রটির ভাষায়, ‘এমবিএস (যুবরাজ) ও চান এই সংঘাত শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হোক। এটি তাঁর কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং তিনি ট্রাম্পকে বলেছেন যে তিনি এতে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।’
সৌদি শাসক মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি চুক্তি আনতে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে রিয়াদ ও তেহরান পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী, দুই পক্ষই আঞ্চলিক প্রক্সি যুদ্ধে বিরোধী শিবিরকে সহায়তা করেছে যা ২০২৩ সালে চীন-মধ্যস্থ সখ্যতার পর কমতে থাকে এবং দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপিত হয়।
এখন সৌদি আরবের রাজনৈতিক প্রভাব এতটাই বেড়েছে যে আঞ্চলিক কূটনীতিতে তার ভূমিকা ক্রমেই নির্ধারক হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গভীর নিরাপত্তা সম্পর্কবিশেষত ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সৌদি নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠতা রিয়াদকে মধ্যপ্রাচ্যে অনন্য প্রভাব প্রদান করে।
অন্যদিকে গত দুই বছরে ইরানের আঞ্চলিক শক্তি দুর্বল হয়েছে। কারণ ইসরায়েল গাজায় হামাস ও লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর বিধ্বংসী আঘাত হেনেছে, আর সিরিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে।
ইরানের সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক হামিদ আবুতালেবি বলেছেন, ‘ওমান বা কাতারের মতো দেশ থেকে মধ্যস্থতার চ্যানেল সরিয়ে সৌদি আরবের মতো দেশে নেওয়া যার কাঠামোগত শক্তি রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি প্রভাব রয়েছে এবং উত্তেজনা কমাতে বাস্তবিক আগ্রহ রয়েছে এ মুহূর্তে সবচেয়ে কৌশলগত সিদ্ধান্ত।’
তিনি আরো লিখেছেন, ‘এই বৈশিষ্ট্যগুলো সৌদি আরবকে কার্যকর মধ্যস্থতাকারী এবং বার্তা আদান-প্রদানের জন্য প্রকৃত চ্যানেলে পরিণত করে যে অবস্থান ওমান, কাতার বা ইউরোপিয়ানদের কারোই নেই।’
Discover more from Shadhin Janapad
Subscribe to get the latest posts sent to your email.


