
বিশেষ প্রতিনিধিঃ নাটোরের একডালা বাজার থেকে একটু ভেতরে, ভাটপাড়া হাজীর আম বাগান তিনরাস্তার মোড় এলাকায় ভয়াবহ রূপ নিয়েছে মাদকের কারবার। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের নাকের ডগায় আক্ষরিক অর্থেই মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে পুরো এলাকা। প্রতিনিয়ত সেখানে চলছে ‘বাবা’ (ইয়াবা)সহ নানা প্রাণঘাতী মাদকের বেচাকেনা।
সম্প্রতি এই মাদকের আখড়া ধ্বংস ও মাদক ব্যবসায়ীদের গোপন আস্তানা নির্মূল করতে নিজের লাগান বেশ কিছু সারিবদ্ধ সুপারি গাছ কেটে সাবাড় করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা কিরন নাহার।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এলাকার কুখ্যাত মাদক কারবারিরা বেশ কিছুদিন ধরে কিরন নাহারের বাসার সামনে এবং ওই সুপারি গাছের উঁচু ডালে কৌশলে মাদকের প্যাকেট ও ‘বাবা’ লুকিয়ে রাখত। প্রতিনিয়ত তাঁর বাড়ির আশেপাশে মাদকের ফাঁকা প্যাকেট পড়ে থাকত এবং ঝোপঝাড়-গাছের আড়াল ব্যবহার করে মাদক কেনাবেচা চলত। এতে করে কিরন নাহার ও তাঁর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন এবং নানাভাবে হেনস্তার শিকার হচ্ছিলেন।
পরিস্থিতি অতিষ্ঠ হয়ে এবং মাদক কারবারিদের আস্তানা ও লুকানোর পথ চিরতরে বন্ধ করতে বাধ্য হয়েই কিরন নাহার নিজের গাছের মাথা কেটে ফেলার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নেন। এতে কিরোন নাহারের কোনো অপরাধ নেই; বরং মাদক চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতেই তিনি নিজের সম্পত্তির এমন ক্ষতি স্বীকার করেছেন।
ঘটনার পর সচেতন এলাকাবাসী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তুলেছেন, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ভাটপাড়া তিনরাস্তার মোড়ে কীভাবে দিনের পর দিন অবাধে মাদকের ব্যবসা চলছে? মাদকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব যেখানে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর, সেখানে সাধারণ এক গৃহস্থকে আত্মরক্ষার্থে ও মাদক রুখতে নিজের গাছ কাটতে হচ্ছে—যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। স্থানীয়রা অবিলম্বে একডালা ও ভাটপাড়া এলাকার মূল মাদক কারবারিদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার এবং কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
Discover more from Shadhin Janapad
Subscribe to get the latest posts sent to your email.


