
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে এক প্রবাসীর স্ত্রীর নির্যাতনে গরম পানিতে ঝলসে গেছে ১৪ বছর বয়সী শিশু গৃহকর্মী লামিয়ার শরীর। অভিযুক্ত নারী ফাইজা আক্তারকে শুক্রবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বর্তমানে শিশুটি মেহেন্দিগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
আহত লামিয়া গত ৬ বছর ধরে প্রবাসী জহির তালুকদারের বাসায় কাজ করছিল। শিশুটির অভিযোগ, গৃহকর্ত্রী ফাইজা তুচ্ছ ঘটনায় তাকে প্রায়ই শারীরিক নির্যাতন করতেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সামান্য অজুহাতে হত্যার উদ্দেশ্যে তার গায়ে গরম পানি ঢেলে দেওয়া হয় বলে সে জানায়।
গরম পানিতে শিশুটির একটি হাতের ৯০ শতাংশ ঝলসে গেলেও পাষণ্ড ফাইজা তাকে চিকিৎসকের কাছে যেতে দেননি। শুক্রবার সকালে শিশুটি কোনোমতে পালিয়ে তার মামা সিরাজুল ইসলামের কাছে পৌঁছায়। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং মেহেন্দিগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার পরিপ্রেক্ষিতে মেহেন্দিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিজানুর রহমান হাওলাদারের নির্দেশে পুলিশের একটি টিম অভিযান চালায়। এসআই মোশারেফ হোসেনের নেতৃত্বে পৌরসভার চরহোগলা এলাকা থেকে অভিযুক্ত ফাইজাকে আটক করা হয়।
মেহেন্দিগঞ্জ থানার ওসি সাংবাদিকদের জানান, অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশের একটি চৌকস টিম অভিযুক্তকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়রা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।