

রাজশাহী শহরের রাজপথে বিলাসবহুল গাড়ির বহর নয়, বরং রিকশায় চড়ে ঘুরে বেড়ানো এক অতি পরিচিত মুখ মিজানুর রহমান মিনু। দীর্ঘ ৩২ বছর বয়সে সিটি মেয়র নির্বাচিত হয়ে টানা ১৭ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন, হয়েছেন সংসদ সদস্যও। বর্তমানে তিনি দেশের ভূমিমন্ত্রী, কিন্তু রাজশাহীর সাধারণ মানুষের কাছে তিনি এখনো সেই 'মিনু ভাই'।
ক্ষমতার শীর্ষবিন্দুতে থেকেও তিল পরিমাণ বদলায়নি তাঁর জীবনযাত্রা। আজ শনিবার সকালেও এর ব্যতিক্রম হয়নি; সরকারি প্রটোকল আর পাজেরো গাড়িকে বিদায় জানিয়ে ১০ বছরের সঙ্গী আব্দুল কুদ্দুসের রিকশায় চড়েই বের হন তিনি।
সকালবেলা নগরের ভদ্রা এলাকার নিজ বাড়ি থেকে রিকশায় চড়ে সোজা চলে যান সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে। সেখানে প্রাতর্ভ্রমণে বের হওয়া বয়োজ্যেষ্ঠদের সঙ্গে চলে দীর্ঘ আড্ডা, যেন কোনো মন্ত্রী নন বরং পাড়ার সেই চিরচেনা মানুষটি। এরপর দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় সেরে দুপুরে ফেরার পথে ঢুঁ মারেন দড়িখড়বোনার এক সাধারণ সেলুনে। গত ৪০ বছর ধরে এই একই সেলুনে চুল-দাড়ি কাটান তিনি। রিকশায় চড়ে যাওয়ার পথে দুপাশে থাকা সাধারণ মানুষের সালামের উত্তর দিচ্ছেন হাসিমুখে, আর মানুষও ভালোবেসে হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে তাদের প্রিয় নেতার দিকে।
মজার ব্যাপার হলো, ভূমিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর নিরাপত্তার জন্য পুলিশের গাড়ি এসেছিল, প্রস্তুত ছিল সরকারি গাড়িও। কিন্তু তিনি বিনয়ের সঙ্গে সেসব ফিরিয়ে দিয়ে আগের মতোই একা বেরিয়ে পড়েন রিকশায়।
তাঁর দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুর রব পান্না জানান, মিজানুর রহমান মিনু সবসময় মানুষের কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করেন। তাঁর মতে, রাজশাহী শহর তাকে মন্ত্রী বা এমপি হিসেবে নয়, বরং ভাই বা চাচা হিসেবেই চেনে। আর এই সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ ধরে রাখতেই রিকশাই তাঁর প্রধান বাহন। এমনকি ভোটের প্রচারণাতেও তিনি এই রিকশাকেই বেছে নেন।
রিকশাচালক আব্দুল কুদ্দুসের গর্বের সাথে বলা কথাটিই যেন বর্তমান প্রেক্ষাপটে এক বড় দৃষ্টান্ত— "একজন মন্ত্রী হয়েও তিনি আমার রিকশায় ঘুরছেন, এটা দেখতেই ভালো লাগছে।"