

মেহেদী হাসান, নিজস্ব প্রতিনিধি (স্বাধীন জনপদ): রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানা এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে চাঞ্চল্যকর গোলাম মোস্তফা হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)। এ সময় তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ১টি বিদেশি পিস্তল, ১টি ম্যাগাজিন ও ৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত মোঃ গোলাম মোস্তফা (পিতা-মৃত তৈমুর আলী) রাজশাহী মহানগরের মতিহার থানাধীন ডাঁশমারী এলাকার বাসিন্দা। তার সঙ্গে আসামিপক্ষের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও একাধিক মামলা-মোকদ্দমা চলছিল। পূর্বের সেই শত্রুতার জের ধরেই আসামিরা তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে গোলাম মোস্তফা এশার নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। তিনি খোঁজাপুর এলাকায় পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ আগ্নেয়াস্ত্রের গুলির খোসা ও অব্যবহৃত গুলি উদ্ধার করে। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোসাঃ নাজেরা বেগম বাদী হয়ে মতিহার থানায় একটি হত্যা ও অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা দায়ের করেন।
মামলা রুজুর পর থেকেই জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের জোরদার অভিযান শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আলমাস আল রাজী ও তার টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৯ মে ২০২৬ তারিখ দিবাগত রাত আনুমানিক ৪টার দিকে ডাঁশমারী এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানকালে মামলার ১ নং এজাহারনামীয় আসামি মোঃ হাসিবুল ইসলামকে (৪২) গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত হাসিবুল ডাঁশমারী এলাকার মৃত রমজান মোল্লার ছেলে।
পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃত আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ১টি পিস্তল, ১টি ম্যাগাজিন ও ৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে পুলিশ।
মতিহার থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ মহানগরীতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বদা তৎপর রয়েছে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।