

দুর্বৃত্তদের হামলায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের দুই শিক্ষার্থী আহতের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা গেটের সামনের মহাসড়ক অবরোধ করে এই কর্মসূচি শুরু হয়। এ সময় জড়িত অপরাধীদের গ্রেফতারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।
শিক্ষার্থীরা হামলায় জড়িতদের গ্রেফতারের পাশাপাশি আরও দুটি দাবি উত্থাপন করেছেন। ঘটনাস্থলের পাশেই পুলিশ ফাঁড়ি থাকা সত্ত্বেও পুলিশ সদস্যদের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ এনে তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া, ঘটনার পর কাজলা ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ ডিলিট করায় ওই ক্যান্টিনটি বন্ধ করে দেয়ার জোর দাবি জানান তারা। বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা সন্ত্রাসবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং অসহযোগিতার অভিযোগে ভিপির প্রতিও নিন্দা জানান।
অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে, ফলে অনেক চালক বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে মানবিক দিক বিবেচনা করে আন্দোলনকারীরা কেবল অ্যাম্বুলেন্স যাতায়াতের সুযোগ দিচ্ছেন। শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পুলিশ ফাঁড়ির এত কাছে এমন ঘটনা ঘটলেও পুলিশ কিছুই করতে পারেনি, উল্টো ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষ ফুটেজ ডিলিট করে অপরাধীদের সহায়তা করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত রাতে, যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা গেট এলাকায় একটি রেস্টুরেন্টে অবস্থানকালে মোটরসাইকেলে আসা একদল মুখোশধারী দুর্বৃত্ত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে ফিন্যান্স বিভাগের আল ফারাবী ও তাহমিদ আহমেদ বখশীকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে আহত অবস্থায় ফারাবীকে বিনোদপুর এবং বখশীকে হাবিবুর রহমান হলের সামনে থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়। জানা যায়, আহত আল ফারাবী নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের মাদার বখশ হল শাখার নেতা ছিলেন, তবে গত ১৫ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় তিনি পদত্যাগ করেছিলেন।
সার্বিক বিষয়ে রাবি প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান জানিয়েছেন, পুলিশ অপরাধীদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছে এবং প্রশাসন শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।