

তোজ্জাম্মেল হক, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বর্তমান যুগে আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো স্মার্টফোন। কিন্তু ব্যবহারকারীদের কাছে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হলো ফোনের ব্যাটারি লাইফ। অনেক সময় দেখা যায়, প্রয়োজনীয় মুহূর্তে চার্জ শেষ হয়ে ফোন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফোনের ব্যাটারি দীর্ঘস্থায়ী করতে এবং চার্জ সাশ্রয় করতে অপ্রয়োজনীয় কিছু ফিচার বন্ধ রাখা জরুরি।
আপনার স্মার্টফোনের ব্যাটারির আয়ু বাড়াতে আজই নিচের ৫টি সেটিংস পরিবর্তন করুন:
ফোনের ব্যাটারি খরচ হওয়ার প্রধান উৎস হলো এর ডিসপ্লে। সবসময় সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা (Brightness) দিয়ে ফোন ব্যবহার করবেন না। উজ্জ্বলতা এমনভাবে সেট করুন যা চোখের জন্য আরামদায়ক। এছাড়া ফোনের 'Auto-lock' বা 'Screen Timeout' সময় কমিয়ে দিন (যেমন ৩০ সেকেন্ড বা ১ মিনিট)। এতে কাজ শেষ হওয়ার পর দ্রুত স্ক্রিন বন্ধ হয়ে ব্যাটারি সাশ্রয় করবে।
আমরা অনেক সময় অ্যাপ ব্যবহার করে তা পুরোপুরি বন্ধ করি না। ফলে অ্যাপগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকে এবং ইন্টারনেটের পাশাপাশি ব্যাটারিও খরচ করে। ফোনের সেটিংস থেকে ‘Background App Refresh’ অপশনটি বন্ধ করে দিন। এতে আপনার অনুমতি ছাড়া কোনো অ্যাপ গোপনে ব্যাটারি খরচ করতে পারবে না।
ম্যাপ বা ফুড ডেলিভারি অ্যাপ ছাড়া সব সময় লোকেশন অন রাখার প্রয়োজন নেই। ফোনের ব্যাটারি বাঁচাতে জিপিএস বা লোকেশন সেটিংস-এ গিয়ে ‘Always’ অপশনের পরিবর্তে ‘While Using the App’ সিলেক্ট করুন। এতে অ্যাপটি যখন আপনি ব্যবহার করবেন না, তখন এটি ব্যাটারি খরচ করবে না।
আপনি কি জানেন? মোবাইল ডেটা বা সেলুলার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করলে ফোনের প্রসেসরকে অনেক বেশি শক্তি খরচ করতে হয়। ফলে ফোন দ্রুত গরম হয় এবং চার্জ কমে যায়। তাই যেখানেই সম্ভব সেলুলার ডেটা বন্ধ রেখে ওয়াইফাই ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। এটি ব্যাটারির ওপর চাপ অনেকটাই কমিয়ে দেয়।
আপনার ফোন যদি আইফোন হয় তবে 'Low Power Mode' এবং অ্যান্ড্রয়েড হলে 'Battery Saver' মোড ব্যবহার করুন। ফোনের চার্জ ২০-৩০ শতাংশে নেমে এলেই এটি চালু করা উচিত। তবে ব্যাটারির সুস্বাস্থ্য চাইলে দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকার সময় শুরু থেকেই এটি চালু রাখতে পারেন। এটি ফোনের ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস সীমিত করে ব্যাটারিকে দীর্ঘক্ষণ সচল রাখে।
স্বাধীন জনপদ টিপস: স্মার্টফোনের ব্যাটারি দীর্ঘস্থায়ী করতে সব সময় অরিজিনাল চার্জার ব্যবহার করুন এবং চার্জ ২০ শতাংশের নিচে নামার আগেই চার্জে দিন।